নিখরচায় ছুটছে বাস , শহরের তিন রুটে

নিখরচায় ছুটছে বাস , শহরের তিন রুটে

অম্লিতা দাস, কলকাতা : নিজের ফোনেই স্লট বুক করে বাস চলছে কলকাতায়। তবে তা সব বাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এক বিশেষ সংস্থা শহরের তিন রুটে স্লটের মাধ্যমে  খরচবিহীন এই বাস পরিষেবা দিচ্ছেন। 

১লা জুলাই থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে বাস পরিষেবা। তবে তাতেও আছে অনেক সমস্যা। পেট্রোল ডিজেলের দাম বাড়ার সাথে সাথেই কমেছে বাসের সংখ্যাও। দিশেহারা হয়েছেন সাধারণ জনগণ। বাস পাওয়ার চিন্তায় পরিবহন ব্যবস্থায়ও এসেছে সমস্যা। তাই একটি সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা উদ্যোগী হয়েছেন বাস পরিষেবায়। শহরের তিনটি রুটের জন্য রয়েছে তিনটি আলাদা আলাদা নম্বর। সংশ্লিষ্ট সেই নম্বরে হোয়াটস‍্যাপ অথবা ফোন করে বাসের দুরত্ব জেনে নিচ্ছেন যাত্রীরা। বাসে ওঠার ঘটনাখানেক আগে সেই মত বাসের স্লট বুক করছেন ফোনেই। বাসের লাইভ লোকেশনে ফোনেই পেয়ে যাচ্ছে যাত্রীরা।

শহরের তিন রুট অর্থাৎ হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, চিড়িয়ামোড় থেকে হাওড়া ময়দান এবং সেক্টর ফাইভ থেকে গড়িয়া, আপাতত এই রুট গুলোতেই পরিষেবা দিচ্ছেন সেই সামাজিক সংগঠন। হাওড়া ময়দান থেকে বাস চার্চে সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই আর সেই বাস হাওড়া স্টেশন, বড়বাজার, বি বা দী বাগ, মৌলালি, শিয়ালদহ স্টেশন, সিআইটি, করুণাময়ী পেরিয়ে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পৌঁছাচ্ছে সাড়ে সাড়ে ৯তা নাগাদ। আবার সেই একই বাস বিকেল সাড়ে ৪টে তে সল্টলেক থেকেই ফিরে আসছে হাওড়ায়। এই রুটের বাসের পরিষেবা পেতে ঘন্টাখানেক আগে যাত্রীরা স্লট বুক করছেন ৮৪৮২০৮৮৩২৯ নম্বরে। 

দ্বিতীয় রুটেও একই ভাবে সকাল ৭টা ১৫ নাগাড বাস ছাড়ছে আর তা চিড়িয়ামোড় থেকে বাগবাজার-শোভাবাজার-মহাত্মা গাঁধী রোড পেরিয়ে হাওড়া ময়দান পৌঁছচ্ছে। আর বিকেলে সেখান থেকে বাস ছাড়ছে ৬টায়। এই রুটের বাসের স্লট বুক করার নম্বর ৮৭৭৭৮২৮২৪২।

তৃতীয় রুটটি হচ্ছে সেক্টর ফাইভের কলেজ মোড় থেকে গড়িয়া স্টেশন। যোগাযোগ করতে হচ্ছে ৭০০৩৩৫২২০৭ নম্বরে। এই বাসটি সেক্টর ফাইভের কলেজ মোড় থেকে ছাড়ছে সকাল ১০টায়। তারপর সিটি সেন্টার, পিএনবি, উল্টোডাঙা, মানিকতলা, গিরিশ পার্ক, চাঁদনি চক, পার্ক স্ট্রিট, এক্সাইড, রাসবিহারী মোড়, গড়িয়াহাট, যাদবপুর, গড়িয়া, ক্ষুদিরাম মেট্রো ঘুরে পৌঁছে যাচ্ছে গড়িয়া স্টেশনে। এই বাসটি ফিরছে দুপুর দুটোয়।

এই পরিষেবায় বাসে থাকছেন ভলেনটিয়ার্স। শুধু স্লট বুক করে নয় বাস খালি থাকলে জায়গা পাচ্ছেন অন্যরাও। এই সংগঠনের থেকেই জানা যায়। এই করোনার সময়েই তারা কম পয়সায় বেশ কিছু ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করেছিলেন। এখন পরিবহনে সমস্যা দেখে কয়েকটি ক্যান্টিন বন্ধ করে বাস পরিষেবা শুরু করেছেন। এই ব্যবস্থা নিয়ে আরো চিন্তাভাবনায় রয়েছেন তাঁরা। একদম খরচবিহীনভাবে বাস চালানোর প্রশ্নে তাঁরা জানান, বাসে রয়েছে এক দান করার এক বাক্স। তাতে যার যা ইচ্ছা তাই দিয়ে যাচ্ছে আর সেখান থেকেই পরিষেবার ৪০, ৫০%  উঠে আসছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post