মিছিল করে, আবির উড়িয়ে, বাজি ফাটিয়ে, ডিজে বাজিয়ে উৎসবে মাতলেন দলীয় কর্মীসহ কাউন্সিলররা
রাহুল দেবনাথ ঃ দলের নির্দেশ ছিল ইস্তফার। কিন্তু উল্টো পথে হাঁটছিলেন তিনি। শেষে একমাস পর আস্থা ভোটের আগে বুধবার বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন গোপাল শেঠ। আস্থা ভোটে সংখ্যা গরিষ্ঠ কাউন্সিলরদের সমর্থন পাওয়ার ক্ষীণ আশায় এদিন সকালেই পুরসভার একজিকিউটিভ অফিসারের কাছে ই-মেল করে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন গোপাল।
তবে, নিজের ইস্তফা পত্রে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির নির্দেশের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। গোপালের ইস্তফার বিষয়টি চাউর হতেই মিছিল করে, সবুজ আবির উড়িয়ে, বাজি ফাটিয়ে, ডিজে বাজিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন দলের কর্মীসহ কাউন্সিলররা। মিছিল শেষে গঙ্গাজল ছিটিয়ে বনগাঁ পুরসভায় এসে আস্থা ভোটে অংশ নেন কাউন্সিলররা। ২২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে এদিন ২০ জনই গোপালের বিপক্ষে ভোট দেন। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সূত্রে খবর, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই বনগাঁ পুরসভার নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করতে চাইছেন নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর দল গোপাল শেঠকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তা না করায় ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শারীরিক অসুস্থ্যতার কারণ দেখিয়ে ছুটিতে চলে যান গোপাল। অবশ্য তার আগেই ভাইস চেয়ারম্যানকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এরপরেই গোপালের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেন নয় কাউন্সিলার। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে পুরসভায় এসে নিজের পক্ষে আস্থা অর্জন করতে হয় চেয়ারম্যানকে। কিন্তু সেটাও না করায় বুধবার পুরসভার রূপসী বাংলা প্রেক্ষাগৃহে দুপুর ১২ টায় আস্থা ভোটের ডাক দিয়েছিলেন গোপালের বিরোধী তিন কাউন্সিলার জ্যোৎস্না আঢ্য, কৃষ্ণা রায় এবং নারায়ন চন্দ্র ঘোষ। কিন্তু ভোটাভুটিতে নিজের পক্ষে আস্থা অর্জনের ক্ষীণ আশা নিশ্চিত হয়েই এদিন সকালে মেল করে পুরসভার একজিকিউটিভ অফিসার সুরেশ চন্দ্র হীরার কাছে ইস্তফা দেন গোপাল শেঠ।
এদিন দুপুর ১২ টার আগেই বনগাঁ তৃণমূলের জেলা পার্টি অফিসে জড়ো হন কাউন্সিলররা। ততক্ষণে সেখানে পৌঁছে যান তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিত দাস। বহু কর্মীও হাজির ছিলেন। আস্থা ভোট নিয়ে এদিন বাটার মোড় থেকে পুরসভা পর্যন্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুরসভার সামনের রাস্তা নো - এন্ট্রি করেছিল পুলিশ। কাউন্সিলর, সভাপতিকে সামনে রেখেই পার্টি অফিস থেকেই শুরু হয় তৃণমূলের মিছিল। সবুজ আবির উড়িয়ে, ডিজে বাজিয়ে মিছিল যায় বনগাঁ বাটার মোড়ে। নিজেদের মধ্যে আবির খেলেন উৎসাহী তৃণমূল কর্মী থেকে কাউন্সিলররা। চলে বাজি ফাটানো। মিছিল ফিরে আসে পুরসভার সামনে। এরপর গঙ্গাজল ছিটিয়ে পুরসভায় ঢোকেন কাউন্সিলররা। রূপসী বাংলা প্রেক্ষাগৃহে শুরু হয় আস্থা ভোট। পুরসভার ২২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে আস্থা ভোটে অংশ নেন ২০ জন। এরমধ্যে গোপাল ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলররাও ছিলেন। গোপাল শেঠ এবং একমাত্র বিজেপি কাউন্সিলার দেবদাস মন্ডল ছিলেন না। ২০-০ ভোটে হেরে যান গোপাল শেঠ। হাত উঠিয়ে তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।
এই প্রসঙ্গে পুরসভার একজিকিউটিভ অফিসার সুরেশ চন্দ্র হীরা বলেন, এদিন গোপাল শেঠ চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা পত্র দিয়েছেন আমার কাছে। আবার এ দিনই আস্থা ভোটের ফলাফল হয়েছে ২০-০। পুরসভার নিয়ম মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস জানান, গোপাল শেঠের অনেক আগেই দলের সিদ্ধান্ত মেনে পদত্যাগ করা উচিত ছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে পদত্যাগ করতেই হলো। এতদিন গোপাল শেঠ কাউন্সিলরদের নিয়েই পুরসভা চালিয়েছেন। ওয়ার্ডের পার্টি কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হয় নি। এদিন বনগাঁর মানুষের যে উচ্ছ্বাস ছিল তাতেই বোঝা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ভালো ফল করবে। নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করাটাই লক্ষ্য থাকবে পুরসভার। রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে পরবর্তী চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান ঠিক হবে।
এ প্রসঙ্গে বিজেপি কাউন্সিলর দেবদাস মণ্ডল বলেন, বনগাঁর মানুষ এতদিন ধরে নাটক দেখল। পুরসভায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মানুষের চোখে পড়েছে। নিজেদের দলের চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দিয়ে যেভাবে উল্লাস করতে দেখা গেল, তাতেই প্রমাণ হয়েছে এরা নিজেরাই নিজেদের শক্র।
Bongaon Municipality, Chairman Gopal Seth resigned, who will be new Chairman in Bongaon Municipality.





