সায়ন ঘোষ, বনগাঁ : পৌষ মাসের শেষ মঙ্গলবার উপলক্ষে বনগাঁর ঐতিহ্যবাহী সাতভাই কালীতলা মন্দিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কনকনে শীত উপেক্ষা করে ভোর থেকেই বহু ভক্ত দেবী কালীর দর্শন ও পুজো দিতে মন্দির চত্বরে হাজির হন।
প্রত্যেকদিনের মতৈ এদিন মন্দিরে বিশেষ পুজো, অঞ্জলি ও ভোগ নিবেদনের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌষ মাস জুড়ে প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার এই মন্দিরে ভক্তসমাগম হলেও শেষ মঙ্গলবার হওয়ায় এদিন ভিড় ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। মানত পূরণ ও মনের ইচ্ছা জানাতে বহু ভক্ত দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন।
প্রায় ৫০০ বছর পুরোনো মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকাজুড়ে বসে এই পৌষ মেলা। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে মেলা ছিল জমজমাট। খেলনা, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর নানা দোকানে কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের।
ভিড় সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মন্দির চত্বরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশেই পৌষ মাসের শেষ মঙ্গলবারের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মেলা সম্পন্ন হয়।
মন্দিরের সেবাইত প্রিয়াংশু চক্রবর্তী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ও তার পরিবার মন্দিরের দেখভাল, পুজো ও পৌষ মেলার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, “প্রতিবছরের মতো এ বছরও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ভক্তসমাগম বেশি হওয়ায় মেলা প্রাঙ্গণও আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।”
অন্যদিকে দর্শনার্থী স্নেহা কুণ্ডু বলেন, “আমরা প্রতিবছরই পৌষ মেলার সময় এখানে আসি। এই সময় মা নতুন সাজে সেজে ওঠেন, নতুন রূপে মাকে দর্শনের সুযোগ পাওয়াই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।”
উল্লেখ্য, জেলার সীমান্ত শহর বনগাঁর ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী সাতভাই কালীতলা মন্দির ‘ডাকাত কালী’ নামেও পরিচিত। বনগাঁর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকা এই মন্দিরে পৌষ মাস জুড়ে বিশেষ পুজো ও ধর্মীয় মেলা চলে, যা প্রতিবছরই অসংখ্য ভক্তকে আকর্ষণ করে।




