সায়ন ঘোষ, বনগাঁঃ সব ধর্মের উর্ধে মা, ইচ্ছাময়ী মা সবার। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ শহরে ইচ্ছাময়ী কালি পূজাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হল ভক্তিময় পরিবেশ ও উৎসবের আবহ। স্থানীয় কুঠিবাড়ি এলাকায় ইচ্ছাময়ী কালীপূজা পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজো এবার চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করেছে। প্রতিবছরের মতো এ বছরও ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভক্তদের ব্যাপক অংশগ্রহণে উৎসবটি এলাকাজুড়ে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে।
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার নির্দিষ্ট তিথিতে রাতভর পুজোর আয়োজন করা হয়, যা ভোর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এই দীর্ঘ আচারপর্বে বহু ভক্ত উপস্থিত থেকে মায়ের আরাধনায় অংশ নেন। পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মহাপ্রসাদ বিতরণ—প্রায় ২০০০ ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রায় ২০০ জন ভক্তকে কমিটির তরফে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পুজোর ডালা প্রদান করা হয়। যাতে সকলেই সমানভাবে পূজায় অংশ নিতে পারেন।
এই প্রসঙ্গে পুজো কমিটির মুখ্য আয়োজক সুমন সাহা জানান, “আমাদের লক্ষ্য শুধু পুজো আয়োজন নয়, সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একত্রিত করা। মা ইচ্ছাময়ীর কৃপায় আমরা প্রতি বছর আরও বড় আকারে এই অনুষ্ঠান করতে পারছি। ভবিষ্যতেও ভক্তদের জন্য আরও সুশৃঙ্খল ও বৃহত্তর আয়োজন করার চেষ্টা থাকবে।”
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে শাস্ত্রপাঠ, নামকীর্তন ও ভক্তিমূলক সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিক আবহ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। শেষ দিন অর্থাৎ তৃতীয় দিনে শোভাযাত্রা ও নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে পুজোর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পূজা মণ্ডপে দেবীর সুসজ্জিত রূপ, আলোকসজ্জা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। স্থানীয়দের মতে, অল্প সময়ের মধ্যেই এই পূজা এলাকায় অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে এবং প্রতি বছর ভক্ত ও দর্শনার্থীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।



