১৯বছরের মাথা যেন পোক্ত অপরাধীর বাসা

১৯বছরের মাথা যেন পোক্ত অপরাধীর বাসা

অম্লিতা দাস : ১৯বছর বয়সেই বেছে নিয়েছে অপরাধের মূল সিঁড়ি।কালিয়াচকের অভিযুক্ত মহম্মদ আসিফ।পরিবারের চার সদস্যকে খুন করে টের পেতে দেয়নি বিগত তিন মাস ধরে।

প্রতিবেশী সূত্রে জানা যাচ্ছে, একাদশ শ্রেণীর এই পড়ুয়ার কম্পিউটারের প্রতি দক্ষতা ভীষন।প্রায় চার মাস কেউ কোনো খুন সম্পর্কে আন্দাজ করতে পারেনি।পরিবারের সদস্যরা কোথাও গেছেন বলেই অনুমান করেছিলেন প্রতিবেশীরা।আসিফও কাউর সাথেই কথস বলত না।ঘরেই থাকত এবং অনলাইনে খাবার অর্ডার করে খেত।তদন্তসূত্রে,আসিফের ল্যাপটপ, মোবাইল,কম্পিউটার পরীক্ষা করে বোঝা যায় আসিফ হ্যাকিংয়ে পটু।কিন্তু এই প্রশিক্ষণ কোথা থেকে তা পুলিশকে ভাবাতে থাকে।প্রতিবেশীরা জানায়,আসিফ মাধ্যমিকের পর থেকে কোডিং শিখত,অ্যাপ বানাবে বলে।আসিফের বাবা গর্বও করতেন ছেলেকে নিয়ে।তবে এর আগেও হ্যাকিংয়ের কারণে ওকে পুলিশে ধরেছিল।তদন্তে আরো জানা যায়,বিটকয়েনে জুয়া খেলত আসিফ,হ্যাকিং করে অন্যের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি করত সে।প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকার জন্য বাড়িতে চাপ দিচ্ছিল আসিফ।বড় ভাই আরিফকে পড়াশোনার জন্য অর্থসাহায্য করতে চেয়েছিলেন বাবা।সেই সূত্রেই হিংসের মাধ্যমে খুন।

তদন্তকারীরা ক্রমশ বিস্ময়কর তথ্য আরো সামনে নিয়ে আসে আসিফদের বাড়ি যেন শুধুই একটি সাধারণ বাড়ি নয়।মহম্মদ আসিফ ও তার পরিবারের বাড়িটির ঠিক পাশেই তৈরি হয়েছিল আরেকটি বাড়ি।বাড়িটির নির্মাণ যথেষ্ট ভাবনায় ফেলছে সকলকেই।বাড়িটি উচ্চতা প্রায় ৭০ ফুট। লম্বায় আনুমানিক ৫০ ফুট এবং চওড়া প্রায় ৪০ ফুট।গুদামের মত এই ঘরে নেই কোন ছাদ।কেবল আছে সিঁড়িহীন এক বারান্দা।বাড়িতে প্রবেশের পথ একটি মাত্র দরজা।নেই কোনো ভেন্টিলেটর।রয়েছে অসংখ্য সিসি ক্যামেরা।

বাড়ির ভেতরেই চৌবাচ্চার আকারে কতগুলো গর্ত খোঁড়া হয়েছিল সেখান থেকেই পাওয়া যায় আসিফের মা,বাবা,বোন ও ঠাকুমার মৃতদেহ।ওই গর্তগুলি ছাড়া বাড়িটির বাকি অংশ ফাঁকা বলেই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই বাড়ির মাথার উপর ছাদ না থাকায় বৃষ্টি এবং নানা কারণে গর্তগুলি বুজে গিয়েছিল। শনিবারে সেই মাটি খুঁড়েই দেহগুলি উদ্ধার করেন পুলিশকর্মীরা।গুদামের মত বাড়িটি মূল বাড়ির পাশে হলেও এক বাড়ি থেকে আরেকবাড়ি যাওয়ার সোজাসুজি কোনো দরজা ছিল না।বাড়ি দুটির মধ্যে ছিল এক সুড়ঙ্গ।বাইরে কেউ যাতে দেখতে না পায় বা জানতে না পারে।সেখানে পরিবারের সকলকে হাত-পা বেঁধে, মুখে লিউকোপ্লাস্ট আটকে ওই গর্তে ফেলে দেয় সে। গর্তে সে সময় জল ছিল বলে আসিফ পুলিশকে জানিয়েছে।এখানেও আসিফের দাদা জানান সে এই হত্যাপুরী থেকেও প্রাণ নিয়ে পালিয়েছিলেন।

পুলিশ ধারণা করছেন, বিটকয়েনের মাধ্যমে বিপুল টাকা জিতেছিল আসিফ।পরিবারের সকলের মন জয় করেছিল এই ভাবিয়ে যে সে এত কম বয়সেই উপার্জন করছে।পরিবারের সকলের বিশ্বাস নিয়েই গুদামের মত ঘরটি আসিফই তৈরি করে।তবে পুলিশের ধারণা,বাড়িটি যেভাবে তৈরি সেখানে বাড়িটিতে আসিফের অন্য কিছু করারই মতলব ছিল।নয়ত এই বিশেষভাবে বাড়িটি তৈরি করা হতনা।এমন কান্ড হতবাক করেছে পাড়া-প্রতিবেশীদের।

Post a Comment

Previous Post Next Post