
সার্বভৌম সমাচার, বনগাঁ : এক বিজেপি কর্মীকে দোকান থেকে টেনে বার করে বাঁশ, লাঠি, রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে৷ বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁ থানার বিএসএফ মোড় এলাকার ভবানীপুর রোডের মুখে। গুরুতর আহত ওই যুবকের নাম সুতনু দেবনাথ ওরফে হুলো ।
বিজেপি সুত্রে খবর, আহত ওই যুবক বিজেপির বনগাঁ গ্রামীণ শক্তি কেন্দ্রের প্রমুখ পদে বহাল আছে। তার বাড়ি বনগাঁ থানার জয়পুর ফুলতলা কলোনি এলাকায়। গুরুতর জখম অবস্থায় যুবককে স্থানীয়রা বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে কলকাতা রেফার করে৷
আর পড়ুন—
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন নিজের মোটর পার্টসের দোকানে ছিল সুতনু। হঠাৎই কয়েকজন দুষ্কৃতী ওর দোকানের সামনে এসে ওকে দোকান ঘর থেকে টেনে বার করে মারধর শুরু করে৷ আশেপাশের লোকজন ঠেকাতে গেলে ওই দুষ্কৃতী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা-কর্মীরা বনগাঁ থানার সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান শুরু করে৷ এরপর পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তিও হয়। নিন্ম চাপের প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও থানার সামনে বসে পড়ে অবস্থান বিক্ষোভ করে বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, দেবদাস মণ্ডল, জ্ঞান ঘোষ, সুবীর সরকার, শোভন বৈদ্যসহ বিজেপির মহিলা ও পুরুষ কর্মী-সমর্থকরা।
আর পড়ুন—
বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “সুতনু দেবনাথ আমাদের দলের একজন সক্রিয় কর্মী। ওর অপরাধ ও আপদে-বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। বনগাঁর চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যের নেতৃত্বে কিছু সমাজ বিরোধীরা ওকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে এসেছিল। হাত-পা ভেঙেছে, মাথায় ফ্যাকচার হয়েছে। কিন্তু এখন বেঁচে আছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর উপযুক্ত সাজা দাবী করছি। যেভাবে প্রশাসন সমাজ বিরোধীদের দিয়ে বনগাঁয় যেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করবার চেষ্টা করছে তার জন্য এরপর আমরা বৃহত্তম আন্দোলনের পথে নামব। আমরা এই সন্ত্রাসের মোকাবিলা করব; যে ভাষায় কথা বললে বোঝে সে ভাষায় আজকে থেকে কথা বলা শুরু হবে”।
আর পড়ুন—
এবিষয়ে বনগাঁ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি শম্ভু দাস বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন মারধোর করেনি। উনি আগে সিপিএম করতেন, এখন বিজেপি করেন। মানুষের সংঘে ভাল ব্যবহার করেন না। আমাদের দলের নেত্রী থেকে শুরু করে আমাদের বনগাঁর প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনেক বাজে কথা বলেন। ইদানিং উনি বড্ডবাড়া বেড়ে গেছেন, কোন মানুষের সংঘে ওনার ভাল সম্পর্ক নেই। আজ হঠাৎ শুনলাম উনি উত্তেজিত হয়ে কিছু মানুষের সংঘে গণ্ডগোল করছিলেন, এবং আমাদের নেতা-নেত্রীদের নিয়ে গালিগালাজ করছিলেন। তখন একটু জটলা হয় এবং উনি পড়ে গেলে সামান্য আঘাত পান। আমাদের তৃণমূলের কর্মীরা এধরনের কাজ করেন না, আর আমরা মারধোরের পক্ষেও না। ওদের অভিযোগ একদম মিথ্যা অভিযোগ”।
আর দেখুন—

