সার্বভৌম
সমাচার, বীরভূম : কোথাও পরিমিত জল নেই, তো কোথাও ঠিকমত খাবার
পাচ্ছেন না ভিন রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকরা। আর সামাজিক দূরত্বকে শিকেয় তুলে একসঙ্গে
বহু লোককে রাখা হচ্ছে। ঘটেছে ভাঙচুরের ঘটনা। পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতিদিনই এধরনের অভিযোগ
থাকছে। আর তাতে সুর মেলাচ্ছেন রাজ্যের বিরোধী শিবিরও। কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলির চরম
অব্যবস্থার অভিযোগ করে বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিকে খোয়াড়ের
সঙ্গে তুলনা করেছেন।
এ সব নিয়ে যখন ক্ষোভ বিক্ষোভ চলছে, তখন সাঁইথিয়ায় বিভিন্ন
কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ঘুরে দেখে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী
রায় বলেন, 'সবাই যদি জামাই আদর চান, তাহলে তো সেটা দেওয়া মুশকিল হয়ে যাচ্ছে! মাছ দিলে
বলছে মাংস দেয়নি, মাংস দিলে বলছে ডিম দেয়নি!' এরপর বীরভূমের তিনবারের জন্য জয়ী এই সাংসদ
বলেন, 'আপনার বাড়িতে একজন এলে যে যত্নটা করতে পারবেন, এক সঙ্গে এক হাজার লোক এলে সেটা
তো পারবেন না। এত হাজার হাজার মানুষ আসছেন। তাঁরা বাড়ি ফেরার জন্য অস্থির। এটা একটু
হবেই!' আর এসব নিয়েই বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের মেঘ জমেছে শুরু করেছে।
তবে আপাত ভাবে শতাব্দীর বক্তব্য নিয়ে কোনও বিরোধ না হওয়ারই
কথা বলে অনেকেরই মনে করেন। তাদের মতে, একে
সরকারের অর্থ সংকট চলছে, তাঁর উপর এত মানুষের আশ্রয়, খাবারের ব্যবস্থা করাটাও চাপের।
তাই একটি অভিন্ন ব্যবস্থা তৈরি কথা বলেছিল নবান্ন।
এদিন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেছেন,
'তৃণমূল দলটা পরিযায়ী শ্রমিকদের যে কুকুর-ছাগল ভাবে তা শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছে। প্রথমে
তো রাজ্যেই ফেরাতে চাইছিল না। এখন চাপে পড়ে ফেরালেও তাঁদের ন্যূনতম খাবার, জল টুকুও
দিতে পারছে না সরকার।'
অন্যদিকে সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ তথা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর
সদস্য শমীক লাহিড়ীর বলেন, 'কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে কেউ জামাই আদর চাইছেন না। পেট ভরার
মতো দু'বেলা দু'মুঠো ডাল-ভাত চাইছেন। সরকার সেটাও দিচ্ছে না।' তবে শতাব্দীর মন্তব্যের
নিন্দা করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, 'ভোটের আগে এই গরিব মানুষগুলোই
ওঁর কাছে 'জামাই' ছিলেন। আর যেই ভোটে জেতা হয়ে গিয়েছে তখন দারিদ্র নিয়ে তামাশা করা
হচ্ছে।'
আরও দেখুন--
#Shatabdi Roy #Migrant workers #quarantine center #Corona #lockdown
