রোজগার নেই; তাই ৮০ বছরের পঙ্গু বাবাকে বাড়ি থেকে বের করলো ছেলে

রোজগার  নেই; তাই ৮০ বছরের পাঙ্গু বাবাকে বাড়ি থেকে বের করলো  ছেলে

সার্বভৌম সমাচার, পূর্ব মেদিনীপুর : লকডাউনের কারণে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না মানুষজন। তাই আর বিক্রি করতে পারছেন আইসক্রিম বা চকলেট। কিন্তু সংসারে থাকতে গেলে বা খেতে হলে রোজ তাকে চল্লিশ টাকা দিতেই হবে! না হলে খেতে পাওয়া তো দুরের কথা ঘরে থাকাও চলবে না।

বছর ৮০র গঙ্গাধর সামন্ত-এর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে। জীবনের সমস্ত স্বাদ আহ্লাদকে বিসর্জন দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ফেরি করে ছেলে মেয়েদের মানুষ করেছেন। বিয়ে দিয়েছেন দুই মেয়ের। তাঁরা স্বামীর বাড়ি আছেন । বৃদ্ধ মনে করেছিলেন,  ছেলে-বৌমা নাতি-নাতনিদের নিয়ে বাকি জীবনটা আনন্দেই কেতে যাবে। কিন্তু ছেলের ফরমান,  সংসারে থাকতে গালে, খেতে হলে রোজ দিতে হবে চল্লিশ টাকা!

আরও পড়ুন--

বৃদ্ধকে নিজেরই তৈরি করা বাড়িতে থাকার জন্য ঘরভাড়া দিতে না হলেও, দুবেলা খাওয়ার জন্য ছেলে বৌমার হাতে প্রতিদিন চল্লিশ টাকা তুলে দিতে হবে। ছেলের চালু করা নিয়ম মেনে বছরের পর বছর মিল খরচের টাকা দিয়েই খেতেন গঙ্গাধর সামন্ত। লকডাউনের কারনে বাজার হাট স্কুল কলেজ বন্ধ, বাধ্য হয়েই হকারিও বন্ধ রাখেছেন বৃদ্ধ গঙ্গাধর। কথার খেলাপ না পাসন্দ ছেলের । বাবা খাওয়া বাবদ রোজ দিত চল্লিশ টাকা, কিন্তু এখন লকডাউনের সময় না দিতে পারায় বাড়ি থেকে আশি বছরের পঙ্গু বৃদ্ধ বাবাকে বের করে দিল।

এখন এই পঙ্গু মানুষটির এখন জায়গা হয়েছে রাজবাড়ির ভাঙাচোরা এক ঘুপচির দালানের পাশে! যেখানে প্রায় না খেয়েই কোনমতে দিন কাটছে।

আগে খাই-খরচ চালাতে বৃদ্ধ মাথায় আইসক্রিম বাক্স আর হাতে চকলেটের ব্যাগ নিয়ে বিভিন্ন স্কুলের সামনে, রাস্তার মোড়ে বিক্রি করতেন। দুপুরের খাবার বলতে কোনও স্কুলের দেওয়া মিড ডে মিল আথাবা রাস্তার পাশে কেনও অনুষ্ঠান বাড়ির খাবার। করোনা লকডাউনের কারনে গত দুমাসেরও বেশি সময় ধরে রাস্তা জনমানব শূন্য। স্কুল, কলেজেও তালা। এখন তাঁর খিদে মেটাতে রাজবাড়ির কুলদেবতার মন্দিরের এক বেলার ভোগই ভরসা। যদিও মন্দির থেকে রোজ ভোগ পাওয়া জায় না। তখন ভরসা পথচলতি লোকের দেওয়া খাবার! যদিও তা অনিয়ামিতো। এভাবেই আনাহারে দিন কাটছে বছর ৮০র গঙ্গাধর সামন্তর।


আরও দেখুন--



#corona #lockdawn #পূর্ব মেদিনীপুর #Purba Midnapore #৮০ বছরের পাঙ্গু বাবাকে বাড়ি থেকে বের করলো  ছেলে

Post a Comment

Previous Post Next Post